বাংলাদেশের মুদ্রাবাজারে "ডলার রেট" শব্দটির সাথে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বাজার জড়িত—একটি হলো বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ইন্টারব্যাংক ও রেমিট্যান্স বাজার, এবং অন্যটি হলো খোলা বাজার বা কার্ব মার্কেট (নগদ ক্যাশ ডলার)। সাধারণ গ্রাহক ও প্রবাসীদের মাঝে এই দুটি রেট নিয়ে প্রায়ই বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
১. বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স রেট কীভাবে নির্ধারিত হয়?
বাংলাদেশ ব্যাংক, বাফেদা (BAFEDA) এবং এবিবি (ABB) যৌথভাবে ব্যাংকগুলোর জন্য মুদ্রা বিনিময় হার পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনা করে। বর্তমানে ক্রলিং পেগ (Crawling Peg) ব্যবস্থার আওতায় মধ্যবর্তী রেট নির্ধারণ করা হয়। প্রবাসীরা যখন বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল বা এমএফএস (বিকাশ, নগদ) মাধ্যমে অর্থ পাঠান, তখন তারা এই অফিশিয়াল ব্যাংক রেট পান এবং সরকার এর সাথে অতিরিক্ত ২.৫% নগদ প্রণোদনা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যোগ করে দেয়।
২. খোলা বাজার বা কার্ব মার্কেট (Curb Market) কী?
খোলা বাজার হলো অনুমোদিত মানি চেঞ্জার বা মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ কাগুজে নোটের বাজার। সাধারণত বিদেশে ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী বা চিকিৎসার জন্য নগদ বিদেশি মুদ্রার প্রয়োজন হলে তারা খোলা বাজার থেকে ডলার ক্রয় করেন। এখানে নগদ ডলারের তাৎক্ষণিক চাহিদা ও যোগানের ওপর ভিত্তি করে দাম নির্ধারিত হয়। চাহিদার সংকট থাকলে খোলা বাজারে ব্যাংক রেটের চেয়ে ১ থেকে ৩ টাকা বেশি হতে পারে।
৩. ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠানো কেন সবচেয়ে লাভজনক?
- নিরাপত্তা ও শতভাগ নিশ্চয়তা: ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রেরিত অর্থ কখনই খোয়া যাওয়ার বা বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
- ২.৫% সরকারি প্রণোদনা: ১ লক্ষ টাকায় সরাসরি ২,৫০০ টাকা অতিরিক্ত সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়, যা খোলা বাজারের সামান্য পার্থক্যের চেয়ে বেশি লাভজনক।
- ট্যাক্স-মুক্ত আয়: রেমিট্যান্সের অর্থ দেশে সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত।
সতর্কবার্তা: হুন্ডি প্রতিরোধ করুন
হুন্ডি বা কোনো অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে টাকা পাঠানো মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আপনার কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করুন।